এখন আর নারীরা ঘরে বসে নেই। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি চাকরি করছেন, বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হচ্ছেন উদ্যোক্তা। ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন। আবার ব্যবসার প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একা একা নিচ্ছেন।
তবে দিয়া বিশ্বাসের গল্পটা একটু অন্যরকম। রাজধানীর মিরপুরের দুইয়ে মন্দিরের পাশে থাকালেই চোখে পড়বে তার চায়ের দোকান। শখ করে কিংবা ক্যারিয়ার হিসাবে এই দোকান তিনি দেননি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ফুটপাতে চায়ের দোকান দিতে হয়েছে দিয়াকে।
অথচ তার জীবন এমন হবার কথা ছিলো না। দু’চোখে স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস দিয়ে বড় কর্মকর্তা হবেন, দেশের সেবা করবেন। কিন্তু সেই এখন স্বপ্ন নিভে যেতে বসেছে। বৃদ্ধ বাবা, অসুস্থ মাকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই ফুটপাতে চায়ের দোকান দিতে হয়েছে দিয়াকে।
খুলনার দৌলতপুর উপজেলার কৃষক পরিবার জন্ম দিয়া বিশ্বাসের। এসএসসি ও এইচএসসিতে বেশ ভালো ফলাফল করে বিএসএস কোর্সে ভর্তি হোন দৌলতপুর দিবা-নিশি কলেজে। কোন মতে ভর্তি হতে পারলেও পরবর্তী আর কোন টিউশন ফি দেয়ার সক্ষম হয়নি কৃষক বাবা।
বর্তমানে মিরপুর দুই নাম্বার মন্দিরের পাশের ফুটপাতে মামাতো বোনের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করে দিয়া। এই চা দোকানের উপার্জন দিয়ে চলছে পরিবারের খরচ। চা খেতে আসা অনেকে দিয়ার প্রশংসা করার সাথে সাথে তার পাশে সমাজের বিত্তবানদের দাঁড়ানোর কথাও বলছেন।
তবে দিয়া জানেন না, সংসাদের দায়িত্ব সামাল দিয়ে তিনি আর কখনও পড়াশুনায় ফিরতে পারবেন কি-না।