দুর্ভোগের অপর নাম উত্তরার রানাভোলা সড়ক

রাস্তার নকশা করার ৩৩ বছর পরেও সে অনুযায়ী সংস্কার বা উন্নয়ন করা হয়নি রাজধানী উত্তরা রানাভোলা এলাকার তিতাস পাড়ার একমাত্র রাস্তাটি; যা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। 

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিয়েও রাস্তার উন্নয়নে কোনো ধরনের কাজ করেননি। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে সংস্কার করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী রেখেছেন। 

সিটি কর্পোরেশন বলছে, রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা এখনো চলমান, আগামী বছর কাজে হাত দেওয়া হতে পারে। এমন সিদ্ধান্তে হতাশ সেখানে প্লট বরাদ্দ পাওয়া বাসিন্দারা। 

ঢাকার অভিজাত এলাকার উত্তরার রানাভোলার তিতাসপাড়ার রাস্তা। ১৯৯১ সালে রাস্তাটির নকশা তৈরি করা হয়েছিল। এরপর অনেক জনপ্রতিনিধির আগমন ঘটেছে। কিন্তু কারো সুনজরে আসেনি কাঁচা এই রাস্তাটি।

উত্তরার সিরাজ মার্কেট হয়ে আশুলিয়া দিয়াবাড়ি যাওয়া যায় তিতাস পাড়ার এই এই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু উত্তরার বাসিন্দা হয়েও কাঁচা রাস্তার দুঃখ কোনোভাবেই ঘোচাতে পারছেন না এলাকাবাসী।

নগরে থেকেও নাগরিক সুবিধা নেই এই এলাকার বাসিন্দাদের। রাস্তার পাশেই উন্মুক্ত ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। হাঁটাচলা করার জন্য গাছ কেটে গুঁড়ি ফেলে রাস্তার গর্ত বন্ধের চেষ্টা করেন এলাকাবাসী।

ইট-সুরকিমিশ্রিত কাদামাটির পথ। রাস্তায় জমে আছে আবর্জনামিশ্রিত ময়লা পানি। এঁকেবেঁকে পথ চলছে সবাই। উদ্দেশ্য একটাই, রাস্তার ভালো অংশ দেখে পথ চলা। নতুন বাজার এলাকায় রাস্তায় পানি জমে আছে। দেখে মনে হবে রাস্তা নয়, যেন নালা। কার্পেটিং উঠে গিয়ে জমে থাকা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। 

জমে থাকা পানি কাদামাটি ও আবর্জনার সঙ্গে মিশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী থাকায় রাস্তার ধারে থাকা দোকানের সামনের অংশ দিয়ে হাঁটাচলা করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৩ নাম্বার ওয়ার্ডের। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম জানান, আগামী বছরের মধ্যে রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হতে পারে।

আশ্বাসে আর ভরসা করতে পারছেন না, এবার কাজ দেখতে চাইছেন এলাকাবাসী। সড়কটিতে রাজউকের প্লট যাঁরা কিনেছেন, তাঁরাও বেশ হতাশ বিষয়টি নিয়ে।