ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মুছে ফেলা শেখ হাসিনার গ্রাফিতিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যা এখন পরিণত হয়েছে ঘৃণাস্তম্ভে।
রোববার দুপুরে সেখানে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এর আগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণার পর সোমবার দিনগত গভীর রাতে গ্রাফিতিটি নতুন করে আঁকা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মেট্রোরেলের যে পিলারটিতে শেখ হাসিনার গ্রাফিতি এঁকেছিলো ছাত্রলীগ, জুলাই আন্দোলনে সেটি হয়ে ওঠে ঘৃণা প্রকাশের স্তম্ভ। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর সেই গ্রাফিতিতে জুতা নিক্ষেপ ও ঝাড়ু মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্র-জনতা।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভুলে সেটি মুছে ফেলা হলে, রোববার গভীর রাতে নতুন করে তৈরি করা হয় সেই গ্রাফিতি। অতীতের একচ্ছত্র ক্ষমতার সেই প্রতীক রূপ নেয় ঘৃণার প্রতীকে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সব বয়সী মানুষের ক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে ওঠে এই গ্রাফিতি।
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর আয়োজনে কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় শেখ হাসিনার ‘ঘৃণাস্তম্ভে’ গণ জুতা নিক্ষেপ। এ সময় শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা চত্বর।
শিক্ষার্থীরা ‘রশি লাগলে রশি নে, খুনি হাসিনার ফাঁসি দে’; ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’; আপোস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘খুনি হাসিনার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’; ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ স্লোগান দিতে থাকেন।
গণঅভ্যুত্থানকালে টিএসসি এলাকায় অঙ্কিত গ্রাফিতি মুছে ফেলার প্রতিবাদে দ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানান তারা। আওয়ামী সরকারের দোসররা বর্তমানে দেশে নানা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন এ সময় ছাত্র-জনতারা।
এর আগে রোববার দিবাগত রাতে গ্রাফিতির উপরের দিকের অংশ মুছে ফেলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে গ্রাফিতিটি মুছে ফেলা হলে প্রথমে একদল শিক্ষার্থী শেখ হাসিনার একটি ব্যাঙ্গচিত্র আঁকে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দাবি ওঠে আগের রূপেই আঁকতে হবে এ গ্রাফিতি।
এরপর নতুন গ্রাফিতিটি আঁকেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শিমুল কুম্ভকার, চারুকলা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য মৃধা রাইয়ান ও ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক প্রচার সম্পাদক মমিন মুক্তার সবুজ।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মেট্রোরেলের ওই পিলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন তারা।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এ ঘৃণাকে যুগ যুগ ধরে সংরক্ষণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে। ছবি মুছে ফেলার কাজটি প্রক্টরিয়াল টিমের ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।