ছাগলকাণ্ডে মতিউরের স্ত্রীর রিমান্ড শুনানি ১৯ জানুয়ারি

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকির রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) দিন ধার্য করা হয়েছে। 

বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ইসমাইল তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত আগামী রোববার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। 

রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামি লায়লা কানিজকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করার এবং অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ১০৬ টাকা সম্পদের মালিকানা অর্জন করার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২), ২৭ (১) ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় সূত্রস্থ মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আসামি একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ প্লেসমেন্ট শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেছেন বলে দেখা যায়। ওই ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা উদঘাটন করা প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, এছাড়া তার অর্জিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়টিও উদঘাটন করা প্রয়োজন বিধায় এ মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে মঙ্গলবার দিনগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে আলোচিত সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজকে (প্রথম স্ত্রী) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। 

গত কোরবানির সময় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচনায় আসেন একাদশ বিসিএসের (শুল্ক ও আবগারি) কর্মকর্তা মতিউর রহমান। এরপর তাকে এনবিআর থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে যুক্ত করা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে সরকার মনোনীত পরিচালক পদ থেকেও।

সংবাদমাধ্যমে একের পর এক মতিউর, তার স্ত্রী ও সন্তানের সম্পদের খবর আসার মধ্যে দুদক তাদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে।