ভারত বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন চালিয়েছে, এমন অভিযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা তারই ফল। এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- এমন প্রশ্ন রেখে তারা বলেছেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে তার জবাব চাইতে হবে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এর আগে ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরুর রামমূর্তি নগরের কেলকেরে লেকের কাছ থেকে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন সন্তান নিয়ে উত্তর বেঙ্গালুরুতে থাকতেন তিনি। ওই নারী একটি অ্যাপার্টমেন্টে গৃহকর্মীর কাজ করতেন, তার স্বামীও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
দেশটির পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বাংলাদেশের মানুষ। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থান মেনে না নিয়ে ভারতে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড তারই ফল।
বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাতের পর থেকে অভ্যুত্থানকে ভারত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, ঘৃণা উৎপাদন করেছে; আমরা তার ফল প্রত্যক্ষ করছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি জনগণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান হয়েছে। আমাদের বোনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ভারতকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তারা, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে তার জবাব চাইতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য তারেকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই তারা (ভারত) বাংলাদেশের জনগণকে দ্বিতীয় সারির নাগরিক মনে করে সীমান্তে প্রতিবছর শত শত মানুষ হত্যা করেছে। গত সরকারের আমলে বিচার করা তো দূরের কথা, বিচার চাওয়াও হয়নি। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন মুক্তিযুদ্ধ। এখানে আবু সাঈদ থেকে শুরু করে যারা শহীদ হয়েছেন; আবরার ফাহাদ, ফেলানীর সিলসিলা ধরে তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। অন্য কোনো দেশের আধিপত্যবাদ বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, ভারতে যখন মৌমিতাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিলো, তখন আমরা প্রতিবাদ জারি রেখেছিলাম। কিন্তু যখন নাজমাকে হত্যা করা হলো, তখন ভারতীয় জনগণ চুপ কেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এখনও কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনতা নাজমা হত্যার বিচার চাই; বাংলাদেশের মানুষ আর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটুও ছাড় দেবে না।