স্কুলছাত্রীকে পাঁচজন মিলে ধর্ষণের পর হত্যা, লাশ হাতিরঝিলে

রাজধানীতে হাত-পা বেঁধে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে পাঁচজন মিলে ধর্ষণের পর হত্যা করে বস্তায় ভরে হাতিরঝিলে নিয়ে ফেলে দেয় তারা। এই ঘটনায় জড়িত রবিন ও রাব্বি মৃধা নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরও তিনজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার রওনক জাহান বলেন, ওই কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় একটি জিডি করেন তার বাবা। আর সবশেষ লাশ উদ্ধারের পর হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, ১৬ জানুয়ারি বিকেলে দক্ষিণখানের জয়নাল মার্কেটের সামনে থেকে কয়েকজন মিলে তার মেয়েকে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এর ভিত্তিতে ২৭ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়।

উপকমিশনার রওনক জাহান বলেন, আদালতের মাধ্যমে দুইদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকালে হাতিরঝিল থেকে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। 

একইদিনে ওই দুই যুবক হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন তারা ভিকটিমকে ফাঁদে ফেলে মহাখালীর একটি বাসায় নিয়ে যায়। এরপর তারা ভিকটিমের হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে। 

এক পর্যায়ে কিশোরী মারা গেলে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করে রবিন ও রাব্বি। পরে তারা লাশটিকে বস্তায় করে মধ্যরাতে মহাখালী থেকে রিকশায় করে নিয়ে হাতিরঝিলের রাস্তার ঢালে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান উপকমিশনার রওনক।