কেরানীগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, তরুণ আটক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র গিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক তরুণকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতের স্বামীর দাবি, এসময় ওই নারীর কানের দুল, গলায় স্বর্ণের চেন ও সঙ্গে থাকা কিছু টাকা খোয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, পরকীয়ার জেরে ওই নারী খুন হয়েছেন। ঘটনা জানতে তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া আমবাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম সীমা বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার আক্তার হোসেনের স্ত্রী বলে জানা গেছে। তারা ওই এলাকার আগানগর আমবাগিচা বউবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।  

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তরুণের নাম ইমাম হোসেন (২৫)। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ এলাকার বাসিন্দা।

সীমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের ভাষ্য, সীমা তার সাড়ে ছয় বছরের মেয়ে সাকিবাকে কোচিং করিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে এক দুর্বৃত্ত তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রে দিয়ে আঘাত করে একটি বাসার ভেতরে নিচ তলায় ফেলে রেখে যায়।

তিনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং পরে সেখান রাত সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

নিহতের স্বামী ফল ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, আমি দোকানে ছিলাম খবর শুনে সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। 

তিনি জানান, সীমার কানের দুটি দুল ও গলায় স্বর্ণের চেনসহ কিছু টাকা হত্যাকারীরা নিয়ে গেছে। 

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।

এদিকে রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্র ধরে সীমা আক্তার ইমাম হোসেনের ভাড়া বাসায় দেখা করতে এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইমাম হোসেন সীমা আক্তারকে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় ইমাম হোসেনকে আটক করে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিবাহবহির্ভূত প্রেমের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।