দুর্নীতির মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনার নামে থাকা জমিসহ একটি ফ্ল্যাট জব্দ ও ৯টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
সোমবার (৩ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই আদেশ দেন।
দুদকের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রেজা আবেদনটি করেন। কুমিল্লার সাবেক মেয়র সূচনার ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৫ টাকা জমা রয়েছে বলে দুদকের আবেদন সূত্রে জানা গেছে। আর জব্দ হওয়া ফ্ল্যাটটি রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত।
আবেদনে বলা হয়েছে, তাহসীন বাহার কুমিল্লা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক দুর্নীতির মাধ্যমে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৭০ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জনপূর্বক দখলে রাখেন।
তাহসীন বাহারের নামীয় ১৬টি ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৯৩ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকালে আসামি তাহসীন বাহারের অর্জিত সব সম্পদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তাহসীন বাহারের নামীয় সম্পদ যেন তিনি অন্যত্র হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন সেজন্য তার স্থাবর সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছে।
২০ জানুয়ারি বাহার, মেহেরুন্নেসা এবং তাহসিনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক দুর্নীতির মামলা করে দুদক। গত বছরের ১১ নভেম্বর একই আদালত এ কে এম বাহাউদ্দিন বাহার, তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা, মেয়ে তাহসীন বাহার সূচনা এবং ছেলে আইমন বাহারের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
তাহসীন বাহার সূচনা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র ছিলেন। তার বাবা আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সূচনা কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
২০২৪ সালের ৯ মার্চ তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্র্বতী সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করায় তিনি পদচ্যুত হন। এরপর থেকে পলাতক রয়েছে সূচনা।