নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদে পাশ হবার দিনে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তিন ঘণ্টায় চার শিশু-কিশোরীসহ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচজনের মধ্যে দুই শিশু ও এক কিশোরীকে ঢাকার মুগদা থানার আলাদা আলাদা এলাকা থেকে আনা হয়েছে।
ওসিসি’র সমন্বয়ক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঢাকার আলাদা থানা থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীকে ওসিসিতে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। তবেম এই পাঁচজনের ফরেনসিক পরীক্ষা আগামী শনিবার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ বলছে, চার কিশোরীসহ পাঁচ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকার কয়েকটি থানায় আলাদা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মুগদা থানায় তিন কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা হয়।
মুগদা থানার এসআই আল-আমীন দুই শিশুকে সকালে মুগদা থেকে ওসিসিতে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ১৯ মার্চ ইফতারের পর ১২ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জব্বার (৪০) নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। একই থানা এলাকায় ১৮ মার্চ আরেকটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় পিন্টু চন্দ্র দাস নামের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।
একই থানার এসআই তহিদুল ইসলাম ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ওসিসিতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ১৮ মার্চ ওই কিশোরীকে তার পূর্বপরিচিত সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণ ধর্ষণ করে বলে থানায় অভিযোগ করে। এরই মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে ওসিসিতে ভর্তি হয়েছে।
খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। খিলগাঁও থানার এসআই ইলিয়াস মাহমুদ বলেন, ওই কিশোরীকে আলিফ সিয়াম (২০) নামের এক তরুণ বিয়ের কথা বলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণ করে। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার থানায় মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, বুধবার তরুণীটি ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। সে মামলায় আসামিকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামির নাম আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ওসি আরও বলেন, আসামি ওই তরুণীর পূর্ব পরিচিত। বিয়ের আশ্বাসে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।