ঈদের পরের দিন রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন ও গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। ব্যস্ততা ও ঈদের আগের ভিড় এড়াতে পরের দিনটি বেছে নেন অনেকেই। স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে। একই সঙ্গে অভিযোগ আছে, স্ট্যান্ডিং টিকেটের দ্বিগুণেরও বেশি দাম নেওয়া। তবে গাবতলীতে ভিড় থাকলেও সহজেই মিলছে টিকেট।
কমলাপুর
ঈদের দ্বিতীয় দিন কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়িমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের অনেকেই আবার ঢাকায় এসেছেন জরুরি কোনো কাজে, কিংবা পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল যাত্রীদের ভিড়। তাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ট্রেন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ঘণ্টাখানেক দেরিতে ছাড়ছে।
এদিকে ঈদে ঢাকায় আসা মানুষদের অনেকেই এসেছেন জরুরি কোনো কাজ সারতে কিংবা ঢাকায় তাদের আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে। কর্মব্যস্ততা ও ঈদের দিনের ভিড় এড়াতে এদিন বহু পরিবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন।
তারা জানান, এবারের ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় তাদের অনেকেরই পরিকল্পনায় ছিলো ঈদের দ্বিতীয় দিন।
এদিকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানায়, ঈদের পর দিনের প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে ভোর ছয়টা ১৫ মিনিটে পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এদিন পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি ট্রেন চলছে।
বুধবার থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর ও ২৭ টি কমিউটার, মেইল এক্সপ্রেস ও স্পেশাল ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে যাওয়া আসা করবে। আজ পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মা, পঞ্চগড় একতা ছাড়া কোনো ট্রেন চলছে না। আর পূর্বাঞ্চলের ৮০ শতাংশ ট্রেন চলাচল করছে বলেও জানিয়েছে রেলের সূত্র।
গাবতলী
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। যারা ঈদের আগে ছুটি পাননি, তারা এখন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছেন।
কেউ কেউ পরিবারকে আগেই পাঠিয়ে দিয়ে এখন একা যাচ্ছেন, আবার অনেকে ঈদের আগের ভিড় এড়াতে পরদিন বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাউন্টার স্টাফরা জানান, যাত্রীদের চাপ থাকলেও বাসের টিকিট সহজলভ্য।
যাত্রীরা জানান, বাসগুলো সময় মতো ছেড়ে যাচ্ছে, যাত্রাপথে নেই যানজট। অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা দালাল চক্রের কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন তারা।
এদিকে চুরি, ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির তৎপরতার খবরও পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অবস্থান লক্ষ করা গেছে। সব মিলিয়ে ঈদের পরদিনেও স্বস্তিদায়ক যাত্রার চিত্র গাবতলীতে।