মুজিব বর্ষ উদযাপনে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়, খোঁজে দুদক

২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলো পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এই সময়ে দেশব্যাপী প্রায় সব সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অভিযোগ আছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল টাকা খরচ করে দশ হাজারেরও বেশি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়।

প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন এবং মুজিবের ১০ হাজারের বেশি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নির্মাণ করে অর্থ অপচয়ের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ অন্যেদর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য করা হয়েছে সাত সদস্যের কমিটি। 

এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে গেলো জানুয়ারিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এবার সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানালো সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন,  রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিববর্ষ পালন এবং শেখ মুজিবুরের ১০ হাজারের বেশি ম্যুরাল নির্মাণের করে অর্থ অপচয় ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ প্রমানীত হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদুক।

দুদক মহাপরিচালক বলেন, ১৭২ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তকালে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছে।

দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনের কাছে অভিযোগ জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। পরে তারা বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যা গোপনীয়। 

পরে হাসনাত সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের অভিযোগ দুদক রিসিভ করেছেন। কিন্তু অভিযোগে ব্যাপারে তিনি কিছু জানান নাই। বলেন, এগুলো গোপনীয়।

অতীতে নিরীহ মানুষদেরও দুর্নীতির নামে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হয়েছে। তাই প্রভাব মুক্ত হয়ে দুদক কাজ করবে বলেও আশা করেন তারা।