রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ায় ফাহমিদা তাহসিন কে নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পলাতক স্বামী সিফাত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নিহতের স্বামী সিফাত আলীকে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমান।
এদিকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কেয়ার মরদেহ নিয়ে মিরপুর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন কেয়ার পরিবার ও স্বজনরা।
তাদের অভিযোগ, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে। মামলা নেয়ার পর তদন্তে অবহেলা এবং সুরতহালে কারসাজির অভিযোগও করেন তারা।
এসময় ঘণ্টাখানেক পুলিশের সাথে আলোচনা শেষে অভিযুক্তদের পরিবারের কাছ থেকে নিজেদের জিম্মায় কেয়ার চার সন্তানকে বুঝে পান কেয়ার বাবা-মা। এই বুঝে পাওয়া নিয়েও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ জানান নিহতের বাবা।
তবে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
ওসি সাজ্জাদ রোমান গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত কেয়ার মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। মামলায় নিহতের স্বামী সিফাত এবং তাদের গাড়িচালকসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
কেয়ার ফুফু সৈয়দা ফাতেমা জাহান কলি জানান, বুধবার দিনগত রাত ২টার দিকে সিফাত তার শাশুড়ি নাজমা বেগমকে ফোন করে জানান- কেয়া খুবই অসুস্থ। আপনারা বাসায় আসেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে সিফাত একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে ‘কেয়া আর বেঁচে নেই’।
এরপর নাজমা বেগম স্বামীসহ দ্রুত ওই বাসায় পৌঁছান। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পৌঁছার পর চিকিৎসকরা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করলে সিফাত সেখান থেকে উধাও হয়ে যান। পরে নাজমা বেগম ও তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, সিফাত বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।