শিক্ষার্থীদের অবরোধে শাহবাগের আশপাশে যানজট, জনভোগান্তি

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে দিনভর বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংঘর্ষে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলো। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। দাবি আদায়ের জন্য রাজধানীর প্রধান সড়ক বন্ধ না করতে আবারও আহবান জানিয়েছে নগরবাসী। 

তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টার দিকে শাহবাগের মূল সড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় শাহবাগ ও আশপাশের সড়ক।

দুপুর ১২টার কিছুপরে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ ও সহসভাপতি শাকিল আহমেদ বেলা একটা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন। তারা বলেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তাঁরা সচিবালয়ের দিকে যাবেন। পরে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। 

এতে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট, সায়েন্সল্যাব, মতিঝিলসহ আশপাশের প্রধান সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পরেন যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রীরা। 

মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যেসব বাস চলাচল করে, সেগুলো শাহবাগ মোড়ে এসে ফিরে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যেসব যানবাহন শাহবাগ হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়, সেসব যানবাহন শাহবাগ মোড় পার হতে পারছে না। কাঁটাবন মোড় হয়ে শাহবাগের দিকে আসা গাড়িগুলো রাস্তায় আটকে আছে।

দিনভর এই আন্দোলন-সংঘর্ষের মধ্যেও যানজট নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে তৈরি হয় হিমশিম অবস্থার। তারপরও বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাও করে ট্রাফিক সদস্যরা। ডিএমপি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, যানজটের ভোগান্তি এড়াতে কাঁটাবন, মৎস্য ভবন এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিকল্প রাস্তা চালু করা হয়েছে।

যে কোনো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করাকে জনদুর্ভোগ বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। জনদুর্ভোগ না করে দাবি আদায়ের আহবান তাদের।