আবারও বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম। এবার তাদের শিকার হতে হলো পুলিশকেও। সোমবার রাতে রাজধানীর আদাবরে তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দুই ভাই জনি-রনির গ্রুপ জড়িত। এরা দু’জনই কব্জি কাটা আনোয়ার গ্যাংয়ের সদস্য। এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
দেশীয় অস্ত্র হাতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের এমন মহড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর আর আদাবর এলাকার নিত্য দিনের ঘটনা। ছিনতাই চাঁদাবাজিতে বাধা দিলেই তাদের হাতে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে হরহামেশা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আদাবরেই এই কিশোর গ্যাং গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করে জনি-রনি নামের দুই ভাই। দু’জনই কব্জি কাটা আনায়ার গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। কবজি কাটা আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে আছেন।
আনোয়ার কারাগারে থাকলেও জনি ও রনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তারা আদাবর-১০ নম্বর বালুর মাঠ কেন্দ্র করে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার হত্যাকাণ্ড ও কুপিয়ে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় ত্রাস সৃষ্টি করে তারা।
সোমবার রাতে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে পলাশ নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে এই চক্রটি। ট্রিপল নাইনে কল পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। তখনই ঘটে বিপত্তি। পুলিশ সদস্য আল আমিনসহ ৩ জনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা। সড়কে দাঁড়িয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে কনস্টেবল আল-আমিনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় গাড়িও ভাংচুর করে তারা।
এই হামলার ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্যাংয়ের মূলহোতা জনি-রনি এখনও পলাতক। তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেছেন, সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে এবং জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।
এই গ্যাং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মারধর, চাঁদাবাজি ও অর্থ আদায়ে জড়িত। কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের এমন দৌরাত্ব্য থেকে মুক্তি চায় মোহাম্মদপুর-আদাবরবাসী।