রাস্তার দিক থেকে পানি ছিটাতে দেরি হয় প্রায় ২৫ মিনিট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নেভাতে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে নির্বাপণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু একাত্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাস্তার দিক থেকে আগুনে পানি ছিটানো শুরু করতে দেরি হয় প্রায় ২৫ মিনিট। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও লাইভ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এমন প্রমাণ মিলেছে।  

সিগারেট বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম। দুই মাস ধরে তিনি নিয়মিত বসেন ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার ইউনিট ভবনের রাস্তার ঠিক উল্টো দিকে। শনিবার যখন আগুন লাগে, তখন সেখানেই ছোট্ট দোকানে ছিলেন তরিকুল। জানান, দুইটা ২৫ মিনিটে ধোঁয়া দেখা যায়। বলেন, চুলা জ্বললে যেমন ধোঁয়া দেখা যায়, তেমন ধোঁয়া দেখি। এরপরই একটু বেশি ধোঁয়া দেখা যায়। ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের আওয়াজও শুনি। কিন্তু ১০ মিনিট পর দেখি অন্য একটা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পানির পাইপ সেট না করে এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে।


 
একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, শনিবার আগুন লাগার সময় উপস্থিত ছিলেন কার্গো ভিলেজে। তিনি জানান, আট নম্বর গেট দিয়ে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বের হয়ে আসে কুরিয়ার ভবনের সামনের রাস্তায়। চেষ্টা সত্ত্বেও আগুনে পানি দিতে অনেক সময় নষ্ট হয়। 

বলেন, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার ১০ মিনিট পর দেখি আট নম্বর গেট দিয়ে একটি গাড়ি বের হচ্ছে। হয়তো তারা আগেই ঢুকেছিলো, আমি হয়তো দেখি নাই। তার গেট খোলা চেষ্টা করেও পারিনি। পরে কুরিয়ারের দিকে গেট ভেঙে সেদিক দিয়ে পানির পাইপ নেয়। পর তিন নম্বর গেট ভেঙে পানির পাইপ নেওয়ার চেষ্টা করে।

আগুন যখন বাড়ছিলো, তখন সেখানে উপস্থিত অনেকেই ফেসবুকে লাইভ করেন। একাত্তর  দুটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। একটি ভিডিও সাড়ে ১৭ মিনিটের, আরেকটি ১১ মিনিট। দুটি ভিডিওতেই একটি হলুদ রঙের আগুন নেভানোর গাড়ি কুরিয়ার ভবনের সামনে আসতে দেখা যায়। 

তখন আকাশে ধোঁয়ার কুন্ডলি বাড়ছিলো। গাড়িটিকে ভবনের একেবারে কাছে নেওয়ার জন্য একটি গেট খোলা হয়। কিন্তু গাড়ি প্রবেশ করানো যায়নি। এরপর গাড়িটিকে নেওয়া হয় বাম পাশে কার্গো ভিলেজের কাছে। কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছিলো না। ভিডিওতে একজনকে বারবার বলতে শোনা যায়, মেশিন নাই, পানি নাই। ভিডিওজুড়ে শোনা যায় শুধু আক্ষেপ আর আহাজারি। বাড়ছিলো আগুন, পুড়ছিল পণ্য। অনেক চেষ্টার পর শুরু পানি ছিটানো। ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ১২ মিনিট। 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সিঅ্যান্ডএফ কর্মী মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি দেড়টা পর্যন্ত কাজ করেন কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার ইউনিটের ভেতরে। এরপর যান কাস্টমস হাউসে। আগুন লাগার খবর শুনে ছুটে যান সেখানে। এরপর ভিডিও করেন। তিনি যখন ভিডিও রেকর্ড করেন, তখন মোবাইলে সময় ছিল দুইটা ৩৮ মিনিটি। তার ভিডিতেও হলুদ রঙের ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি দেখা যায়।

সিগারেট বিক্রেতা তরিকুল ধোঁয়া দেখেন দুইটা ২৫ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তারা আগুনের খবর পান দুইটা ৩০ মিনিটে। আর মাহবুবের ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের ঢুকছে দুইটা ৩৯ মিনিটে। আর পানি ছিটানো শুরু হয় তারও ১২ মিনিট পর। অর্থাৎ দেরিতে কাজ শুরুর যে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীরা করেছেন তা সঠিক।

গত রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, ফায়ার সার্ভিস আসতে ১০/১২ মিনিট সময় লেগেছে। কিন্তু তাকে সংশোধন করেন সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান। পরে উপদেষ্টা জানান, ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দ্বিতীয় ইউনিট আসতে আরও সময় নেয়। অভিযোগ, বের করার অনুমতি দিলে অনেক পণ্য রক্ষা করা সম্ভব হতো।