সকালের আলো ফোঁটার পর থেকেই শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে আসছেন তার সহযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ। কারও চোখে পানি, কারও চোখ পানিতে ছলছল, কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে, কেউ করছেন প্রার্থনা। সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী কেউ মানতে পারছেন না হাদির এ মৃত্যু।
কেউ কেউ আবার চোখে পানি নিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর। দ্রুত প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও তাদের কণ্ঠে।
শরিফ ওসমান হাদির সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম সুমন। জুলাই আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন রাজপথে। ওসমানকে হারিয়ে নির্বাক রফিকুল কিছুতেই থামছে না তার কান্না।
রফিকুলের দাবি, মানুষের নিরাপত্তা দিতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত। প্রশ্ন রাখেন ভালো মানুষরা কেনো রাজনীতিতে টিকতে পারেন না!
ওসমান হাদিকে চিনেন সাধারণ রিকশাওয়ালারাও, ৩০ বছর ধরে রিকশা চালান বাগেরহাটের ওয়ারেস হাওলাদার। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জানাজায় যেতে না পেরে আজ তার কবর জিয়ারত করতে এসেছেন তিনি। তার মতো অনেক রিকশাচালক রিকশা থামিয়ে করছেন কবর জিয়ারত। করছেন প্রার্থনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত ওসমান হাদির কবর দূর থেকে দেখছে সর্বসাধারণ। করছেন প্রার্থনা। এর মধ্য রাজধানীর বাহিরে থাকা আসা মানুষরাও রয়েছেন।
গতকাল বিকেলে ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয় ওসমান হাদিকে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর আড়াইটায় লাখো জনতার উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে আনা হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি মারা যান।