লাখো মানুষের শোক আর শ্রদ্ধায় বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা শেষ হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় এই ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
বেগম জিয়ার জানাজা পরিণত হয়েছিল দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বদের এক অনন্য মিলনমেলায়। জানাজায় শরিক হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। আরও উপস্থিতি ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্য এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। অংশ নেন ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিকেল ৩টায় জানাজা শুরু হলেও দুপুর ১টার আগেই রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে ফার্মগেট, ধানমন্ডি ২৭ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জায়গা না পেয়ে লাখ লাখ মানুষ অলিগলি, ভবনের গ্যারেজ এবং ফুটপাতে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের চোখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোক।
জানাজা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নিয়ে আসা হয়। জানাজা শেষে এখন তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।