মাদক কারবার ও চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। গত দুইদিনে তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আহতদের মধ্যে একজন জুলাইযোদ্ধা ও গণহত্যা মামলার সাক্ষী। একাত্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হামলার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার বাদল গ্রুপ জড়িত। পুলিশ বলছে, এসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারি, রাত ১০টা ১০ মিনিট। মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা এলাকার ময়ূর ভিলার পাশের গলির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। এতে দেখা যায়, একটি সিএনজি প্রবেশ করে গলিতে, একে একে নেমে আসে তিনজন। সবার হাতেই চাপাতি। দুজন বোরখা পরিহিত। সিএনজি থেকে নেমেই জুলাইযোদ্ধা ও গণহত্যা মামলার সাক্ষী ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কোপায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেই সিএনজিতে করেই পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
গুরুতর আহত ইব্রাহীম রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীরা বোরখা পরিহিত থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি ইব্রাহিম। স্বজন ও বন্ধুদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের মামলার সাক্ষী হওয়ায় ইব্রাহিমকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। জুলাই আন্দোলন থেকে সৃষ্ট শত্রুতার কারণে তাকে কোপানো হয়েছে।
এই ঘটনার ঠিক আগের দিন একইভাবে হামলার শিকার হয়েছে আরও দুইজন। সিসি ক্যামেরার এই ফুটেজে দেখা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর তিনটা ১৩ মিনিটে দুইজন হেঁটে যাচ্ছিলেন বসিলা তিন রাস্তার দিকে। এসময় তাদের ওপর হামলা করে একদল সন্ত্রাসী। এলোপাতাড়ি কোপানো হয় তাদেরকেও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুন ও রাসেল নামের দুই শ্রমিক দলের নেতা সেদিন হামলার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদক কারবার ও ফুটপাতের চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় এই হামলা।
এই একই গ্রুপ ইব্রাহিমের ওপর হামলা করেছে বলেও দাবি তাদের।
মোহাম্মদপুরে একের পর এক কারা, কেন এই হামলা করছে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, আড়ালে বসে এই হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে কিলার বাদল। মাঠ পর্যায়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করছে রাব্বি, কাউসার ওরফে মোল্ল্যা কাউসার, গ্যারেজ সোহেল, বাত রাসেল, মাছুমসহ আরও কয়েকজন।
এই চক্রটি মোহাম্মদপুরে ফুটপাতের চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ হেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বেপরোয়া ছিল এরা।
পুলিশ বলছে, এই চক্রের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
এসব চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং লিডারদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনার দাবি স্থানীয়দের।