বাংলাদেশের নারীদের চিন্তা-ভাবনা ও অগ্রযাত্রা সমাজকে অনুপ্রাণিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, প্রতিটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি।
রোববার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার- সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষিত হলে জাতি আলোকিত হয়, প্রেরণা পেলে জাতি এগিয়ে যায়, আর নারীরা সমৃদ্ধ হলে সমাজও সমৃদ্ধ হয়। নারীরা নেতৃত্বে এলে সমাজ আরও দৃঢ় ও সাহসী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। এখানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস বানুর মতো ব্যক্তিত্ব তরুণ নারী সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরাঙ্গনাদের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে শামা ওবায়েদ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলার নারীরা অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সেই বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সাহসিকতার ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকরা। এ ছাড়া চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশায় নারীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য পরিবার কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এ সময় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ বেগম পলিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস বানুকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের এই স্বীকৃতি একজন সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনসহ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সকল নারীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।