ঠিকাদারের কোপে কলেজছাত্রী নিহত, মা ও দুই ভাইবোন হাসপাতালে

ঢাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এক কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারের হামলায় একই পরিবারের এক তরুণী নিহত, এক শিশু ও নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে হামলাকারীকে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ভাঙা প্রেসের সামাদ মেম্বারের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত তরুণীর নাম দিয়া মনি নবনী (২০)। ওই বাড়ির বাসিন্দা নবু উল্লাহর মেয়ে নবনী বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন- দিয়ার মা নুসরাত জাহান মৌসুমী (৪২), ছোট বোন জয়া (১২) ও ছেলে মোয়াজ (১৫)

এই ঘটনায় হামলাকারী ঠিকাদার আবু মুসাকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যার কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর চারটা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসক দিয়া মনিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা গাড়িচালক বিল্লাল জানান, আবু মুসা গত কয়েক বছর ধরে ওই পরিবারের ১০ তলা ভবন নির্মাণের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। কাজের পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নবু উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে তার ঝগড়া চলছিলো। এর জের ধরেই দিবাগত রাতে আবু মুসা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং হামলাকারী আবু মুসাকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

ঘটনার সময় গৃহকর্তা নবু উল্লাহ বাসায় ছিলেন না। ছোট সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। সামাদ মেম্বার ছিলেন নিহত দিয়া মনির শ্বশুর।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত দিয়া মনির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। হামলাকারী আবু মুসা নিজেও সামান্য আহত হওয়ায় তাকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।