রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এখনো থামেনি মানুষের কান্না ও ক্ষোভ। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঘটনার পর থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় ছোট ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’—এমন নানা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ।
এদিকে রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রামিসার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এসময় রামিসার বোনের শিক্ষা এবং পরিবারের নিরাপদ বাসস্থানের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।
প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।