রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় এখনো থামেনি মানুষের ক্ষোভ। শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে রামিসাদের বাড়ির সামনে চলা বিক্ষোভ দুপুরের পর ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর পর্যন্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ সেখানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
জুমার নামাজের পর থেকেই মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে জড়ো হতে থাকেন সাধারণ মানুষ। পরে বেলা তিনটার দিকে মিরপুর পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছান একদল প্রতিবাদকারী।
বিক্ষোভকারীরা গোল চত্বরে অবস্থান নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
তারা বলেন, এমন নির্মম ঘটনার পর দেশের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার।
তাদের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যহত থাকবে বলেও জানান তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রামিসার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এসময় রামিসার বোনের শিক্ষা এবং পরিবারের নিরাপদ বাসস্থানের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।
প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।