জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে রাজধানীর মিরপুর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে শিশু বলাৎকার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে এক শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার আলাদা অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, এক শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৯৯৯ নম্বরে কলে মাদ্রাসাশিক্ষকসহ গ্রেপ্তার দুই
৯৯৯-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে ডিএমপির মিরপুর থানাধীন শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ১২ বছরের এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছে। ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মিরপুর থানাকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন মেহেদীকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার বাসিন্দা।
এর আগে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানার পাটগাতি এলাকা থেকে এক শিশুর মামা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানান, তার ভাগনিকে এক ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করেছে। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে। আলাদা এ দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
হাতিরঝিলে মাদ্রাসার ভেতর শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর হাতিরঝিলের মহানগর প্রজেক্ট এলাকার ‘আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসা’র ভেতর থেকে তাহমিদুল ইসলাম (১০) নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত তাহমিদুল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মো. শাহিন রেজার ছেলে।
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া জানান, রামপুরা ডিআইটি রোডের ‘বেটার লাইফ হাসপাতাল’ থেকে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববার (৫ জুলাই) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃতের বাবা শাহিন রেজা পুলিশকে জানান, মাদ্রাসার ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় তাহমিদুল। পরে সহপাঠীরা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাতিরঝিল থানা-পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা ও সন্দেহ রয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে ১০ বছরের শিশু আত্মহত্যা কীভাবে করতে পারে? আর যদি করেই থাকে, তবে তা কেন? নাকি এই ঘটনার আড়ালে আছে নির্মম কোনো সত্য, যা টেনে করতে পারে শুধুই পুলিশ।