জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এক না হলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিগত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সেই আলোকেই সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) সানাউল্লাহ।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবজারভেশন মিশনের সুনির্দিষ্ট ১৯টি প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শগুলোকে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সামনের দিনগুলোতে ইইউর সঙ্গে এই বিষয়গুলো সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। ইসির নিজস্ব দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ভালোভাবে আমলে নিলে সামনের দিনগুলোতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় ভালো কিছু করা সম্ভব।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচন কিন্তু এক নয়। তবে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইইউ যে সুনির্দিষ্ট ১৯টি প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা আমাদের আগামী দিনের পথচলায় পাথেয় হবে।
সংলাপে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে আগামীতেও সম্পৃক্ত থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আরও বেশি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ইসি নিরলসভাবে কাজ করছে। সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনকে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক করার প্রত্যাশা রয়েছে কমিশনের। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে বিষয়বস্তু উঠে আসবে, সেই অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।