রাজধানীতে কংক্রিটের জঙ্গল ফুঁড়ে এক চিলতে সবুজ

ইট-পাথরের যান্ত্রিক এই ধূলিমলিন শহরে যখন এক ফোঁটা তাজা নিঃশ্বাস আর এক টুকরো সবুজের জন্য নগরবাসীর নিত্য হাহাকার, ঠিক তখনই রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পেপসি গলি যেন এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলেছে। ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে যে ডিভাইডার বা সড়ক বিভাজক ধূসর কংক্রিট হয়ে পড়ে থাকার কথা ছিল, তা-ই এখন রঙিন ও তরতাজা এক অভিনব শহুরে খামার। ধুলাবালি আর ধোঁয়ার চাদর ঠেলে বিভাজকজুড়ে হেসে উঠছে চোখজুড়ানো টাটকা সবজির বাগান।

ছবি: একাত্তর
এই জাদুকরী পরিবর্তনের কান্ডারি কিন্তু কোনো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষিবিদ নন। এই চমকপ্রদ উদ্যোগের নেপথ্যে আছেন স্থানীয় রিকশা গ্যারেজের মালিক, ফুটপাতের চা-দোকানি আর খেটে খাওয়া নিরাপত্তা প্রহরীরা।

নগরজীবনের হাজারো ব্যস্ততা আর হাড়ভাঙা খাঁটুনির ফাঁকে ফাঁকে অবসর পেলেই নিস্তার মেলে এই বাগানে, একটু মাটি নিড়ানো, জল দেয়া আর ফসলের দেখভাল করাটাই যেন তাদের চরম প্রশান্তি।

ছবি: একাত্তর
শুরুটা একেবারেই খেয়ালী শখ থেকে হলেও, এই মেঠো উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে এক রসালো ও সমৃদ্ধ খামারে। পেপসি গলির ব্যস্ত পথ দিয়ে হেঁটে গেলেই চোখ আটকে যাবে সবুজ পাতার নাচনে। লালশাক, তরতাজা পুঁইশাক, ডাঁটা, কাঁচা ঝাল মরিচ, ঢেঁড়স, কচু থেকে শুরু করে মিষ্টি কুমড়ার মতো নানা পদের দেশি সবজির সমারোহ এখন সেখানে। রাস্তার ধুলোবালির মাঝে এ যেন এক টুকরো সতেজ মরূদ্যান!

এই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর সদ্ব্যবহার। অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলানো এসব বিষমুক্ত ও টাটকা ফসল শুধুই উদ্যোক্তাদের রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নিজেদের ঘরোয়া প্রয়োজন মেটানোর পর পরম মমতায় তা বিলিয়ে দেওয়া হয় প্রতিবেশী ও পথচারীদের মাঝেও।

ছবি: একাত্তর
ঢাকার সবকটি সড়ক বিভাজককে হয়তো একরাতে কৃষিজমিতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়, কিন্তু পেপসি গলির এই খেটে খাওয়া মানুষদের উদ্যোগ একটা স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দেয়, সবুজের জয়গান গাইতে কিংবা প্রাণের ছোঁয়া ফিরিয়ে আনতে বিশাল কোনো উদ্যান লাগে না; প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর একটুখানি ভালোবাসার।