টঙ্গীর ইজতেমায় আলাদা তারিখসহ সাদপন্থিদের সাত দফা দাবি

তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের পাশাপাশি আগামী টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় আলাদা তারিখ ঘোষণাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাদ অনুসারীদের পক্ষে এসব দাবি তুলে ধরেন সংস্থাটির সদস্য মাওলানা শফিক বিন নাইম।

সাংবাদিক সম্মেলনে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মসজিদের ব্যবহার দুই পক্ষের (সাদ ও জুবায়েরপন্থী) মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সাদ অনুসারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

মাওলানা শফিক বিন নাইম জানান, দেশব্যাপী বিভিন্ন মসজিদে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভ্রাতৃঘাতী বিরোধ ও অপপ্রচার বন্ধে আইনি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সাদ অনুসারীদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ব ইজতেমায় সাদ অনুসারীদের জন্য আলাদা তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা।  টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মসজিদে উভয় পক্ষের অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় বণ্টন ব্যবস্থা চালু করা। সারাদেশে স্বাধীনভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিগত বছরের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

সাংবাদিক সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের অন্য মুরুব্বি ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত তিন সেপ্টেম্বর বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ এবং টঙ্গী ইজতেমা মাঠ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ—সাদপন্থি ও জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী আট থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সেদিন মন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনার পর ইজতেমার এই দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।