চাকরিচ্যুত ও গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। চাকরি পুনর্বহালের দাবি এবং ব্যাংকটিকে প্রভাবমুক্ত রাখার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকে পুরো ব্যাংক পাড়া মতিঝিলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাজোঁয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালে ২০১৭ সালে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক চাকরিচ্যুত পাঁচ হাজারের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতিনিধিরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সমবেত হন।

চাকরিচ্যুতদের দাবি, কোনো তদন্ত বা আগাম নোটিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নিয়োগের সময় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সকল নিয়ম মেনেই তারা যোগদান করেছিলেন। বর্তমানে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ কোনো শর্ত ছাড়াই চাকরিতে পুনর্বহালের এক দফা দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করার কথা তুলে ধরেন তারা।

অন্যদিকে, একই স্থানে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কয়েকশো গ্রাহক ও ব্যবসায়ী অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করেন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, চাকরিচ্যুতরা সবাই এস আলমের অনিয়ম ও ভুয়া সনদের মাধ্যমে পাওয়া অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর দোসর।

ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদ জানিয়ে তারা দাবি করেন, এস আলমের লোকজনকে আর ইসলামী ব্যাংক দখলে নিতে দেওয়া হবে না। অনিয়মকারীদের ফেরানোর চেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ তোলেন।

দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে মতিঝিল এলাকায় প্রচণ্ড উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে অবস্থানস্থল ত্যাগ করেন। তবে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে দুই পক্ষই পুনরায় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।