রাজধানীর ব্যস্ততম প্রগতি সরণির নতুনবাজার এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর দীর্ঘসূত্রতায় তীব্র যানজট ও দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ নগরবাসী। মূল সড়কজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দুই থেকে তিন লেনের সুবিশাল সড়কটি সংকুচিত হয়ে এক লেনে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই পথজুড়ে লেগে থাকছে দীর্ঘ ও স্থবির যানজট।

নতুনবাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের প্রজেক্ট সাইনবোর্ডে ১২০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা ঝুললেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি একেবারেই ধীরগতির। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সড়কের এক পাশ খুঁড়ে রাখায় গাড়িগুলো এক সারিতে কোনোমতে থিমে থিমে ধুঁকতে ধুঁকতে পার হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে প্রগতি সরণিজুড়ে তৈরি হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ কচ্ছপগতির যানবাহনের সারি।
অসহায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের আকুতি: সড়কের এই চরম গতিহীনতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেখানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে জট কাটাতে অনেক যাত্রীকে তীব্র গরম ও ধুলাবালির মধ্য দিয়েই বাধ্য হয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যাচ্ছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি কিংবা সময়সংবেদনশীল কাজের যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় পথচারী ও যানবাহনের চালকদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রগতি সরণিতে দ্রুততম সময়ে ওয়াসার কাজ শেষ করে সড়ক পুনর্নির্মাণ না করলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণেই এই দীর্ঘসূত্রতা বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। দ্রুত জনবল বাড়িয়ে প্রজেক্ট দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিচ্ছেন নগরবিদরা।
