ধানমন্ডি লেকে বিপণন পরামর্শকের মরদেহ, তদন্তে পুলিশ

রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে এক পেশাদার বিপণন পরামর্শকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম জাবেদ আহামেদ (৫১)। তার স্থায়ী ঠিকানা বনানীর ১৩ নম্বর রোডের ১২২ নম্বর বাড়িতে। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের এক নম্বর রোডের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় বসবাস করছিলেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ সংবাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজের নিচ থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জাবেদ নিখোঁজ ছিলেন, এ ব্যাপারে ভাটারা থানায় জিডি করা হয়েছিল। তিনি ধানমন্ডি যাবেন বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পুলিশ সবশেষ জানতে পেরেছিলো তিনি কলাবাগান ছিলেন।

উদ্ধারের সময় নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারকে খবর দেয় পুলিশ। সংবাদ পেয়ে নিহতের স্ত্রী শাহানা জাবিন খান ধানমন্ডিতে গিয়ে জাবেদের মরদেহ শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে এসআই আব্দুল গফুর জানান, পেশায় বিপণন পরামর্শক হলেও জাবেদ আহামেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অনটন ও সামাজিক নানা সঙ্কটের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিলো। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ৪-৫ মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই স্থানটি ফোলা অবস্থায় ছিলো।

ধানমন্ডি থানা-পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা নাকি কোনোভাবে পানিতে পড়ে মৃত্যু—তা পুরো ঘটনা তদন্তের পর ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।