ইউরোপের তিন দেশ সার্বিয়া, মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় কাজের সুযোগ এবং বৈধ ভিসা পাওয়ার পরও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছেন শত শত বাংলাদেশি কর্মী। এ পরিস্থিতি নিরসনসহ জনশক্তি ছাড়পত্র প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. তুহিন বলেন, আমরা কোনো অনিয়ম বা অবৈধ প্রক্রিয়ার দাবি করছি না। যারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে ভিসা ও চাকরির সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বিদেশে যাত্রার পথ অকারণে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতি ও লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই প্রক্রিয়া শেষ করা কর্মীদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষিত ছয় দফা দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ১. ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম শুরু: সার্বিয়া, মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় বৈধ ম্যানপাওয়ার বা রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করা।
- ২. ভিসাধারীদের গমনে সুযোগ: ইতোমধ্যে যেসব কর্মী বৈধ ভিসা পেয়েছেন, তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
- ৩. মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার অগ্রাধিকার সমাধান: যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সমস্যার সমাধান করা।
- ৪. ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা: ম্যানপাওয়ার বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতি লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ৫. সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের স্পষ্টিকরণ: কর্মী ও বৈধ রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা।
- ৬. ‘৫ জন সীমা’ নীতি সংস্কার: একই কোম্পানিতে ৫ জনের বেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন ও ডিমান্ড লেটার অ্যাটেস্টেশনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একই কোম্পানিতে পাঁচ জনের বেশি কর্মী প্রেরণে অতিরিক্ত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করছে।
ভিডিও ইন্টারভিউ, ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট লেটার যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত শত শত কর্মী এখন ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই অতিরিক্ত অনুমোদনের জায়গায় আগের প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি সহজ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম সরদার জানান, প্রবাসকালীন যে কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব কর্মীরা নিজেরাই বহনে সম্মত আছেন এবং প্রয়োজনে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতেও প্রস্তুত। তাই অনাবশ্যক প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অ্যাটেস্টেশন ও ম্যানপাওয়ার ছাড়পত্র প্রদানের জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে উপস্থিত প্রতিনিধিরা।