রাজধানীর মিরপুর-১-এর ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ সংঘবদ্ধ দলের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘পাবলিক হেলথ এডভোকেটস অব বাংলাদেশ’ (পিএইচএবি)।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইকবাল মাসুদ, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, আমিনুল ইসলাম সুজন, ফারহানা জামান লিজা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, আমিনুল ইসলাম বকুল, আবু রায়হান, সামিউল হাসান সজীব, সাগুফতা সুলতানা, ইব্রাহিম খলিল ও ফাহমিদা ইসলামসহ অন্য জনস্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বিপুলসংখ্যক মুখোশধারী ব্যক্তি কেন্দ্রটিতে হামলা চালিয়ে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সরকারি টিকাদান কার্যক্রমের নথি ও সরঞ্জাম, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, চিকিৎসা ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম এবং কম্পিউটারসহ অন্য মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থাপনাটিতে ভাঙচুর চালিয়ে সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যা দেশের পুরো জনস্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংরক্ষিত সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদান রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য-নথি নষ্ট হলে তার প্রভাবে শিশু ও নারীদের নিয়মিত টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পিএইচএবি’র মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দখল বা ভাঙচুর করতে পারে না। সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হামলা জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার ও নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগের ওপর চরম আঘাত।
বিবৃতিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি লুট হওয়া সরকারি টিকা, স্বাস্থ্য-নথি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অবিলম্বে দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন বেআইনি হস্তক্ষেপ না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান জনস্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটা) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। চারজনকে গ্রেপ্তারসহ এ ঘটনায় জড়িত অন্য এবং নাম উল্লিখিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, অপরাধীকে তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। এমনকি ওই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর বিজ্ঞপ্তির।