১৩০ বারের মতো পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। বুধবার, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়।

এর ফলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ রেকর্ড ১৩০ বারের মতো পেছাল।

এক যুগেরও বেশি সময় আগে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাঁদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই দিনই রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানার পুলিশ ও পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব পেলেও ব্যর্থতার মুখে হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি দীর্ঘ দিন র‌্যাবের চিকিৎসাধীন বা তদন্তাধীন ছিল।

পরবর্তীতে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং বর্তমানে পিবিআই মামলাটির পুনর্তদন্ত পরিচালনা করছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বারবার তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন এবং ১৩০ বার তারিখ পেছানোর পর এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে নিহতদের পরিবার ও সচেতন সাংবাদিক সমাজের ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাস শুধুই ভারী হচ্ছে।