ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ ট্রলিতে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছে দুই ব্যক্তি। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে অত্যন্ত নাটকীয় ও রহস্যজনকভাবে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মৃতদেহের পকেটে থাকা একটি সামান্য ভিজিটিং কার্ড ও চশমার দোকানের রিসিটের সূত্র ধরে পুলিশ ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম সবুজ মল্লিক (৫০)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা মৃত আমজাদ মল্লিকের ছেলে। সবুজ মল্লিক পেশায় ঢাকার ধামরাই এলাকার একটি সিরামিক কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে জিন্স প্যান্ট ও আকাশি রঙের শার্ট পরা ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন দুই ব্যক্তি। জরুরি বিভাগের ট্রলিম্যান মো. পারভেজ মোশারফের কাছে রোগীকে রেখে তারা জরুরি টিকিট কেটে আনার কথা বলে কাটান এবং পরে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো হদিস মেলেনি।
পরবর্তীতে ট্রলিতে থাকা ওই ব্যক্তিকে দ্রুত জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে বেলা ৩টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহের নাম-পরিচয় নিশ্চিতে তল্লাশি চালানো হলে তাঁর পকেটে একটি মানিব্যাগ, কিছু ভিজিটিং কার্ড এবং একটি চশমার দোকানের ক্রয়রশিদ পাওয়া যায়।
রশিদের সূত্র ধরে ওই চশমার দোকানে যোগাযোগের পর সেখানকার কর্মীরা নিহতের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা দেখে স্বজনেরা যোগাযোগ স্থাপন করেন।
মুঠোফোনে নিহতের ছেলে তামিমের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হলে তিনি তাঁর বাবার পরিচয় নিশ্চিত করেন। তবে তার বাবা ধামরাই থেকে কীভাবে ঢাকা এলেন, সঙ্গে কারা ছিলেন কিংবা ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারটি কিছুই জানাতে পারেনি।
পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান আরও জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ধামরাই ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের অধিকতর তদন্তের পরই সবুজ মল্লিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাকে ফেলে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানা সম্ভব হবে।