মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক সমস্যা নিরসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমাজে ঘটে যাওয়া ঘৃণ্য অপরাধগুলোর আসল কারণ খুঁজে বের করতে না পারলে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন বা কারাগার তৈরি করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কুমিল্লার সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার উদাহরণ টেনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লায় তিন দিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা দেখলেই বুঝা যায় আমাদের মানসিকতায় কতোটা পরিবর্তন প্রয়োজন। পরপর দুটি ঘটনা ঘটে গেলো, যা দেখে আমাদের মন-মানসিকতা কতোটা বিকৃত হয়ে গেছে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
তিনি আরও বলেন, এক-দুটি ঘটনার বিচারিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হলেও সামগ্রিকভাবে অপরাধ দমনে মানুষের সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতি সবাইকে মানসিকভাবে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি তার বক্তব্যে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডা. মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সমাজে সুস্থ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য জনগণের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সরকারি উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ নানাভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তবে এ খাতে সরকারি পর্যায়ে কাজের সুযোগ এখনও সীমিত। সীমাবদ্ধ বাজেটের মধ্যেই সরকারি উদ্যোগে মানসিক চিকিৎসায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুতই এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।