প্রথম দিনেই গুড়িয়ে দেয়া হলো ৫০টি অবৈধ স্থাপনা

দখল, দূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপে হারিয়ে যেতে বসা আদি বুড়িগঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও জীবনসত্তা ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছে বৃহৎ যৌথ উচ্ছেদ অভিযান। হাইকোর্টের সরাসরি নির্দেশনার পর সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে লালবাগের ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

সোমবার অভিযানের প্রথম দিনেই নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা ৫০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানটি থেকে অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ১০০ টন বর্জ্য।

Buriganga Evection 03
এক সময় রাজধানীর নৌযোগাযোগ ও স্থানীয় জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান আধার ছিল ঐতিহ্যবাহী এই আদি বুড়িগঙ্গা। তবে দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল করে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালি বর্জ্যে পুরো চ্যানেলটি সংকুচিত হয়ে একটি ময়লার নর্দমায় পরিণত হয়েছিল। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরাতে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দুটি এক্সক্যাভেটর ও পাঁচটি ডাম্প ট্রাক নিয়ে নেমেছেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।

অভিযান চলাকালে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফ উদ্দিন, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, প্রাথমিক লক্ষ্য ১০ দিনের মধ্যে প্লাস্টিকসহ যাবতীয় বর্জ্য অপসারণ করা, তবে নদীর জায়গা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Buriganga Evection 01
উলেখ্য, মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আদি বুড়িগঙ্গা থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। ২০১৯ সালেও বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চার নদীর সীমানা রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে কয়েক শত একর তীরভূমি উদ্ধার করেছিল। পুনরায় দখল ঠেকাতে এবারও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, সীমানা পিলার এবং কঠোর নজরদারির স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা।