নিজের প্রতিষ্ঠানেই সাড়ে ১৬ কোটি টাকার পুকুরচুরি!

‘রক্ষকই যখন ভক্ষক’ কথাটি যেন হুবহু মিলে গেল ‘সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ক্ষেত্রে। যে প্রতিষ্ঠানে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন, সেই কোম্পানিরই সাড়ে ১৬ কোটি টাকা নিখুঁত পরিকল্পনায় চাটনি করে দিয়েছেন পার্থ সারথী হালদার! তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সিআইডির সাঁড়াশি অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছেন এই কোটি টাকার আত্মসাতের মূলহোতা।

গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ বছর বয়সী পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের কাঠালিয়া গ্রামের সন্তান পার্থ নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা হাতিয়ে নেন।

মামলার এজাহার ও সিআইডির অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, পার্থ সারথী হালদার ও তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেক ব্যবহার করতেন। চেকে সুবিধাজনকভাবে প্রাপকের নাম বদলে তা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতেন তারা।

শুধু তা-ই নয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করে কোম্পানির খাতায় জমা না দিয়ে ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএসের মাধ্যমে তা নিজেদের পকেটে পুরতেন। জালিয়াতি ঢাকতে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে তৈরি করা হতো ভূয়া খতিয়ান। কাগজে-কলমে অর্থ জমা দেখালেও বাস্তবে ব্যাংক লেজার ঘেঁটে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে কোনো টাকার হদিস মেলেনি!

এককভাবেই বিভিন্ন চেকে জালিয়াতি চালিয়ে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা হাওয়া করেন পার্থ সারথী। এ ছাড়া গ্রাহকদের থেকে সংগৃহীত টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা করে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এমনকি গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘পানামা সিএনজি কনভার্সন’ থেকেও একইভাবে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সিআইডি।

এই জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে এলে ভাটারা থানায় মামলা রুজু করা হয়। অনুসন্ধানে গতি এনে গত ১৬ সেপ্টেম্বর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এই চক্রের দুই সহযোগী সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি এবং সৈয়দ আরব আলীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সর্বশেষ মূলহোতা পার্থ সারথী হালদার গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। সিআইডি জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের এই মহানাটকে জড়িত অন্য কুশীলবদের ভূমিকা ও পাচার করা অর্থের গতিপথ উদঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।