বিএনপি সরকারের মুখে ‘জুলাই’ থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী ভাবধারা রয়ে গেছে এবং আওয়ামী লীগের পুরোনো শাসন কাঠামো টিকিয়ে রাখতেই তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। বিএনপি সরকার অনতিবিলম্বে একদলীয় সংবিধান সংশোধনী কমিটি বিলুপ্ত না করলে এবং প্রস্তাবিত বিল সংসদে উত্থাপন করা হলে তা বয়কট করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির সংসদ সদস্যরা।
ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের অর্জন ও সনদ বাস্তবায়নের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতা সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সংস্কার বাস্তবায়নের নামে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। তারা মুখে বলছে অক্ষরে অক্ষরে সনদ বাস্তবায়ন করবে, অথচ বাস্তবে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখা যেভাবে বাস্তবায়ন না করে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, এই জুলাই সনদকেও সেভাবে ব্যর্থতার দলিলে পরিণত করতে চাইছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় মেনে নিলে সংস্কারের সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু যারা জবাবদিহিতাহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করতে চায়, তারা কখনোই প্রকৃত সংস্কার চাইবে না—এটাই স্বাভাবিক। সংসদ কোনোভাবেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনী কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রেখে বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার সুবিধার্থেই বিএনপি ঝুলন্ত প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে।
দলটির পক্ষ থেকে সোজা জানিয়ে দেওয়া হয়, বর্তমান কাঠামোর অধীনে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে তোলা হলে এনসিপির সংসদ সদস্যরা তা বয়কট করবেন।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী সৈকতের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে এনসিপি। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন বা লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই রিসোর্ট ব্যবসা চালিয়ে আসছিল, সেই প্রশ্ন তুলে এই প্রাণহানির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়।