বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। নিহত তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় দীপের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
পিবিআই থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্যই দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে আনা হয়েছে। তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং নিখোঁজ হওয়ার আগের মুহূর্তে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দীপের দেখা হয়েছিল। ফুটেজে দেখা যায়, কুশল বিনিময়ের পর তারা দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে রওনা হন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, দীপের ফোনের ডাকে সাড়া দিয়েই তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীপ দাবি করেছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে যান এবং কাজ শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা ও তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে দীপের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।
উল্লেখ্য, নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরি বলে শনাক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম তাঁর ছেলের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফ মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।