মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, যান চলাচল শুরু

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া সংঘর্ষের ফলে মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে একপ্রকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুপুর আড়াইটার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Mirpur Clash 02
রোববার সকাল ৯টার দিক থেকে মিরপুর ১০ গোলচত্বরে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে শুরু করেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও নারী শ্রমিক সাবিহা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি, তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তাঁরা।

Mirpur Clash 03
বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পুলিশকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন দোকানপাট এবং যমুনা ব্যাংকের গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকায় সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হয়।

Mirpur Clash 04
দ্বিতীয় দফায় অবরোধ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন:
প্রথম দফায় পিছু হটে শ্রমিকেরা দুপুর সাড়ে ১২টার পর মিরপুর-১১ এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হন। এ সময় তাঁরা রাস্তার ডিভাইডার ভেঙে মূল সড়কে ফেলে রাখেন এবং মিরপুর-১১ নম্বরে মেট্রোরেলের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এমনকি ঘটনাস্থলে আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও ধাওয়া করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আবারও দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। দুপুর ২টার দিকে পুলিশের জোরালো অ্যাকশনের মুখে শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে চলে গেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

Mirpur Clash 06
পুলিশের বক্তব্য ও যাত্রীদের ভোগান্তি:
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের সাংবাদিকদের বলেন, "পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এর পরও তারা যেভাবে আন্দোলন করছে, তাতে মনে হচ্ছে তাদের ভেতরে কোনো গোষ্ঠী উসকানি দিচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান চলছে।

এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে মিরপুর এলাকায় এই তীব্র আন্দোলনের কারণে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সকালে অফিসগামী ও জরুরি কাজে বের হওয়া হাজার হাজার যাত্রীকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় এবং অনেকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন।