ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুর ও আশুলিয়ার পর এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর এলাকা। শনিবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
একপর্যায়ে দুপুরে মিরপুর-১ নম্বরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশ ও পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও ১১ নম্বর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এর ফলে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।
পরবর্তীতে দুপুর ২টার পর শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মিরপুর-১০ দিক থেকে আসা শ্রমিকদের একটি অংশ হিমালয় গার্মেন্টসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
একই সময় পাশে অবস্থিত ‘বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্স’-এও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১৫০ জনের মতো বিক্ষুব্ধ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে ধীরে ধীরে মিরপুর এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, মিরপুর-১০ নম্বর থেকে শ্রমিকরা সরে যাওয়ার পর ১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
