সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের স্বীকৃতি ও নানা প্রলোভনে হাতিয়ে নেয়া বিপুল পরিমান অর্থ ফেরতের দাবিতে যুবলীগের এক নেতা বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন দীপু বেগম (৩৫) নামের এক যৌনকর্মী। অভিযুক্ত জুলহাস মোল্লা (৪০) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিস্কৃত (সাময়িক) সাধারণ সম্পাদক।
গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে করা লিখিত অভিযোগে দীপু বেগম জানান, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর আগে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আসেন। এখানে আসার পর থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে জীবন-যাপন করাসহ কিছু অর্থ সঞ্চয় করছিলেন। এরমধ্যে জুলহাস মোল্লা দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।
তিনি জানান, নির্বাচিত হবার পর থেকে সে আমাকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর সে আমাকে বিয়ে করে। বিয়ের এক বছরের মাথায় জুলহাস মোল্লার ওরসে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়। এরমধ্যে নানা কৌশলে জুলহাস আমার কাছ থেকে ব্যবসা ও রাজনীতির কথা বলে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা হতিয়ে নেয়। এরপর হতে সে বদলে যেতে থাকে। আমার উপর নানা অত্যাচার- নির্যাতন চালায় এবং অন্যায়ভাবে আরো টাকার দাবি করতে থাকে। আমি সকল অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে জোরপুর্বক তালাক দিয়ে সংসার থেকে তাড়িয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে আবারো আমি পূর্বের পেশায় ফিরে আসি। এতদিন তার ক্ষমতার দাপটের কারণে কোন অভিযোগ করার সাহস পাইনি। সম্প্রতি তাকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করার খবর পেয়ে আমি এ অভিযোগ করার সাহস পাই। আমি আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া সকল নগদ অর্থ ফেরত চাই। সেই সাথে আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয়েরও দাবি জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক বরাবর এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে দীপু বেগমের ব্যাক্তিগত ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিস্কৃত (সাময়িক) সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলহাস মোল্লা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে ফাঁসাতে এ ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ হোসেন মোল্লা জানান, আমরা দীপু বেগমের লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। আগামী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
একাত্তর/এসএ