গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী ও শাশুড়ি আটক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশালপাড়া আদর্শ গুচ্ছগ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মুক্তা বেগম (২৫) আদর্শ গুচ্ছগ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী এবং একই উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত উত্তরপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই গৃহবধু মুক্তা বেগম ও তার স্বামী শহিদুলের মধ্যে ঝগড়া হতো। সেই জেরে বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে মুক্তা বেগমকে মারপিট করে শহিদুল ইসলাম। এতে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মুক্তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

নিহত মুক্তার বেগমের মা মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ৯ বছর পূর্বে রিক্সাভ্যান চালক শহিদুল ইসলামের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাই ও তার পরিবারের দাবি অনুযায়ী যৌতুক প্রদান করা হলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তারা আমার মেয়ের কাছে আরো যৌতুক দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত যৌতুক না দেওয়ায় প্রায় সময় স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন আমার মেয়ে মুক্তা বেগমের ওপর নির্যাতন চালানো শুরু করে। এরই জের ধরে বুধবার সকালে মুক্তাকে বসার পিঁড়ি দিয়ে বেদম মারপিট করে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য ৯ গ্রাম!

এক পর্যায়ে মুক্তা অচেতন হয়ে পড়লে স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মুক্তাকে মৃত ঘোষণা করলে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন তার মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি আরও জানান, আমার মেয়ে মুক্তাকে হত্যার পর আমাকে সকাল ৯টায় খবর দেওয়া হয় মুক্তা আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেই।

শহিদুল পিঁড়ি দিয়ে মুক্তাকে মারার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ঘরে ঝুলিয়ে রেখে মানুষকে ডেকে আনে, নানীকে এমন তথ্য মুক্তার পাঁচ বছরের শিশু সন্তান মোমিন জানান বলে দাবি করেন মোর্শেদা বেগম।

সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খান জানান, শ্বশুড়বাড়ি থেকে ওই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মৃতের মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় গৃহবধুর স্বামী শহিদুল ইসলাম (২৮) ও শ্বাশুড়ী তহুরা বেগমকে (৪৮) থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


একাত্তর/টিএ