গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে আছে কুড়িগ্রামের দুটি ইউনিয়নের ৯টি গ্রাম। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় খেয়ে না খেয়ে সন্তান নিয়ে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের কথা বলে টাকা নেবার অভিযোগ উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার ঘটনায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের পাঁচটি মন্দিরে ভাংচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় উলিপুর থানায় মন্দির ভাংচুর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক পাঁচটি মামলায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় সাত শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে। মামলার পর থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো।
দিনের বেলা নারী এবং বৃদ্ধরা বাজারঘাট করলেও রাতের বেলা এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। অভাবের কারণে একদিকে পেটের জ্বালা, অপরদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছে এখানকার বাসিন্দারা। পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে আশেপাশের গ্রামসহ হাটবাজারগুলোতে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আরও পড়ুন: বাসায় চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দিয়েছি, আর কতো চান: প্রধানমন্ত্রী
এলাকার মসজিদে হচ্ছে না আজান ও নামাজ। শ্রমিক না পেয়ে পড়ে আছে ক্ষেতখামার। পুলিশী অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি নিরীহ-নিরপরাধ মানুষগুলোও গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই আতঙ্ক থেকে বাদ পড়েনি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও। দীর্ঘ করোনায় পড়ালেখায় মারাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুও এলাকা পুরুষশূণ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। এছাড়া মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে কিছু দালাল চক্র গোপনে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/টিএ
