চোরাকারবারি চিহ্নিত করতে বিতর্কিত উদ্যোগ বিজিবির

বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিতর্কিত এক উদ্যোগ নিয়েছে সীমান্ত-রক্ষী বাহিনী বিজিবি। চিহ্নিত চোরাকারবারিদের বাড়িতে 'মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি' এবং 'চোরাকারবারির বাড়ি' সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে বিজিবির স্থানীয় সদস্যরা।

বিবিসির বরাত দিয়ে জানা যায়, যাদের বাড়িতে এসব সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান এবং মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়েছিল বলেও জানায় বিজিবি। তবে বাড়িতে সাইনবোর্ড প্রসঙ্গে কিছু জানে না স্থানীয় পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবার বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছেন।

তবে বিজিবির এই কর্মকাণ্ড এরই মধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, এভাবে কারো বাড়িতে 'মাদক ব্যবসায়ী' এবং 'চোরাকারবারি' সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এভাবে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির আদালতে বিচার হবার আগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: খালার বাসা থেকে 'নিখোঁজ' টিকটকার তিন বোন

তিনি আরও বলেন, আমরাও চাই অপরাধীরা শাস্তি পাক, মাদকের বিস্তার বন্ধ হোক। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় না। একটা আধুনিক, সভ্য, গণতান্ত্রিক সমাজে এটা হতে পারে না। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি প্রমাণিত না হয় তখন কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

যাদের বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজী হননি। এছাড়া স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বাড়িতে একজন লোক অপরাধ করতে পারে। কিন্তু সেই বাড়ির বা পরিবারের সবাই তো অপরাধী না।

বিষয়টি নিয়ে বিজিবি হবিগঞ্জের ৫৫ ব্যাটালিয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


একাত্তর/টিএ