তিন জমজ সন্তান নিয়ে বিপাকে হতদরিদ্র পরিবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহদত মেম্বার পাড়া গ্রামের দিনমজুর কিরণ মুন্সি ও ববিতা বেগমের ঘর আলোমিক করে একসাথে জন্ম নিয়েছে তিন পুত্র সন্তান। 

এক সাথে তিন পুত্র সন্তানের পিতা হয়ে যেমন আকাশ ছোঁয়া খুশি হয়েছিলেন হতদরিদ্র কিরণ মুন্সি। তবে কয়েকদিন ভেতরই ভাটা পড়েছে তার সেই আনন্দের বন্যায়। প্রিয় সন্তানদের মুখের আহার যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন কিরণ। এ নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

জানা গেছে, গত চার নভেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে একসাথে তিনটি সুস্থ্য পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ববিতা বেগম। পরিবারে নতুন সদস্যের আগামনে খুশিতে আত্মহারা কিরণ মুন্সি সন্তানদের নাম রাখেন তামিম, তাসিন, তানজিল। কিন্তু দিন গড়ানোর সাথে সাথে তার সে আনন্দ ফিকে হয়ে ওঠে। কারণ তিনটি শিশু সন্তানকে লালন পালন করতে যে খরচ, তা তিনি রোজগারও করতে পারেন না।  ইতি মধ্যেই তাদের ২৯ দিন বয়সী ওই তিন শিশুর লালন-পালন ও চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙনে সহায়-সম্বল হারিয়ে ববিতা-কিরণ দম্পতি আশ্রয় নিয়েছে দৌলতদিয়া শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকায়। সেখানে তিন শতাংশ জমি লীজ নিয়ে কোনমতে মাথা গোজার ঠাই করে নেন কিরণ। জীবিকার তাগিদে কখনো হকারী, কখনো বা দিনমজুরের কাজ করে কোন মতে ভরনপোশন করেন পরিবারের। তিন জনজ ছাড়াও তাদের সাত বছর বয়সী আরো একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে। এমনিতেই তিনজনের সংসারে অভাবের শেষ নেই। তার উপর আরো তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আশেপাশের লোকজন যে যতটুকু পাড়ছে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু এভাবে কয়দিন? সরকার যদি পরিবারটিকে একটু সহযোগিতা করতো তাহলে পরিবারটি বেঁচে যেত।

গৃহবধু ববিতা বেগম বলেন, আল্লাহ আমার ঘরে ফুটফুটে তিনটি পূত্র সন্তান দিয়েছেন। এই তিনটি সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে ধার-দেনা করে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি। সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে ওদের খাবারের জন্য কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু আমাদের কতটুকু সামর্থ আছে?

আরও পড়ুন: খালেদার সুচিকিৎসা না হলে বেশিদিন বাঁচবেন না: ফখরুল

তিন জমজের পিতা কিরণ মুন্সি জানান, তিনটি সন্তানের জন্য প্রতিদিন একটি ল্যাকটোজেন ওয়ান ও মিসরি লাগে যার দাম প্রায় সাড়ে ৬শ টাকা। এর উপর আবার আমাদের নিজেদেরও তো পেট আছে। আমি দিনমজুরের কাজ করে প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকা আয় করি। যার কারণে প্রতিদিনই কারো না করো কাছ থেকে ধার-দেনা করে ওদের খাবার যোগাতে হয়। এভাবে আর কয়দিন চলবে!


একাত্তর/এসএ