আমিত সাহার মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় হতাশ আবরারের বাবা-মা

বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অমিত সাহার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন স্বজনরা।

সেই সঙ্গে অবাকও হয়েছেন তারা। তবে মামলার সার্বিক রায়ে স্বস্তি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করেছেন তারা।

আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। পড়াশোনা করেছেন কুষ্টিয়ার মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল এবং ঢাকার নটরডেম কলেজ।

ছোটবেলা থেকেই ভীষণ মেধাবী ছিলেন আবরার। ছেলের পড়াশোনার প্রতি বাবা-মা ছিলো যত্নবান। ছিলো আলাদা ঘর। যা এখনও আগের মতোই আছে।

আছে সেই পড়ার টেবিল, বইখাতা। চশমাটাও সাজানো গোছানো। যেন এখুনি তুলে পরে নেবেন মেধাবী পড়ুয়া আবরার। অথচ সেই মানুষটিই নেই। ঘরজুড়ে আছে হাহাকার আর শূন্যতা।

সন্তান হত্যার রায় শোনার জন্য কুষ্টিয়া পিটিআই রোডের নিজ বাড়িতে টেলিভিশনের সামনে বসেছিলেন আবরারের মা, ছোট ভাইসহ অন্যান্য স্বজনেরা। 

রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন সাজার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রোকেয়া খাতুন। রায়ে সন্তোষ জানালেও আবরার হত্যার মূল হোতা অমিত সাহার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তিনি হতাশা জানান।

আবরার হত্যা মামলার সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন রোকেয়া খাতুন বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা অমিত সাহা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে না থাকলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে হত্যাকাণ্ডের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। অথচ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: খালেদার প্রতি অনেক উদারতা দেখিয়েছি: শেখ হাসিনা

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কীভাবে সে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাদ যায় আমি বুঝতে পারলাম না। আপনারাও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দেখেছেন ২৫ আসামি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবরার হত্যায় জড়িত ছিলো। কীভাবে পাঁচ আসামি মৃত্যুদণ্ড থেকে বাদ গেল।

রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আববার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী অমিত সাহার মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

এদিকে, মেধাবী ছাত্র আবরারের হত্যাকারীদের সাজার খবরে খুশি এলাকাবাসীও। সেই সঙ্গে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড় ছিলেন। তার ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এইচএসসির ছাত্র।

একাত্তর/আরএ