কুকুর বাঁচাতে চেয়ারম্যানের রাতভর চেষ্টা, এলো ফায়ার সার্ভিসও

তখন ঠিক রাত দেড়টা। শীতের রাত, মৌলভীবাজার বড়লেখার অধিকাংশ মানুষ তখন গভীর ঘুমে। এমন সময় অপরিচিত কেউ একজন ফোন করেন বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিনকে। ফোনে জানানো হয়, কাঁঠালতলী এলাকায় রাস্তার পাশে তিনটি কুকুরকে কে বা কারা বিষ খাইয়েছে, রাস্তার পাশে কুকুরগুলো ছটফট করছে। 

ঘটনাটি শুনে একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন। ততোক্ষণে তীব্র যন্ত্রণায় ঝোপের মধ্যে লুকিয়েছে কুকুরগুলো। তাদের বাঁচাতে প্রথমে প্রাণিসম্পদ অফিসে, পরে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন এনাম। তবে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় কুকুরগুলোকে উদ্ধার করেন তিনি। সকলের চেষ্টায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে কুকুরগুলো। 

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের অনেকেই। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী সাইডিংবাজার এলাকায় এক পথচারী রাস্তার পাশে তিনটি কুকুরকে ছটফট করতে দেখেন। বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিনকে জানালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এনাম। এসেই দেখেন একটি কুকুর ঝোপের মধ্যে তারে আটকে পড়ে ছটফট করছে। অন্য দুটি কুকুর উঠে দাঁড়িয়েছে। তিনি কুকুরটিকে বাঁচাতে কল দেন প্রাণিসম্পদ অফিসে। 


এ সময় যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে কল দেন ফায়ার সার্ভিসে। রাত প্রায় চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল আসে। এরইমধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় চেয়ারম্যান তারে আটকে থাকা কুকুরটিকে উদ্ধার করে কাঠালতলী পোস্ট অফিসের সামনে এনে রাখা হয়। রাতভর চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের চেষ্টায় শুক্রবার সকালে সবগুলো কুকুর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ায়।

এলাকার বাসিন্দা সাঈব আহমদ ইয়াছের বলেন, কাঁঠালতলী এলাকায় ৮ থেকে ১০টি কুকুর আছে। কুকুরগুলো অনেকটা শান্ত স্বভাবের। রাতে কুকুরগুলো দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এলাকা পাহারা দেয়। এরমধ্যে কয়েকটি কুকুরকে কে বা কারা বিষ খাইয়েছে। কাল রাতে আরও কয়েকটি কুকুরকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে বলে জেনেছি। এরমধ্যে তিনটি কুকুর রাস্তার পাশে ছটফট করছিল। কেউ একজন ফোন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। 

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন একাত্তরকে বলেন, রাত দেড়টার দিকে ঘুমিয়েছিলাম। অপরিচিত কেউ একজন ফোন করে জানায় যে কাঁঠালতলী এলাকায় রাস্তার পাশে তিনটি কুকুরকে কে বা কারা বিষ খাইয়েছে। বিষয়টি শুনেই ছুটে আসি। এসে দেখি দুটি কুকুর মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। এরমধ্যে একটি কুকুর হয়তো তীব্র যন্ত্রণায় ঝোপের মধ্যে লুকিয়েছিল। এটিকে বাঁচাতে প্রথমে প্রাণিসম্পদ অফিসে। পরে ফায়ার সার্ভিসে কল দেই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগেই আমি স্থানীয়দের সহায়তায় একটি কুকুরকে উদ্ধার করেছি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে শিগগিরই চুক্তি সই করবে মালয়েশিয়া

তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলোর যন্ত্রণা দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। খুব কষ্ট লেগেছে। এটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। সবার চেষ্টায় সকালে কুকুরটি উঠে দাঁড়িয়েছে। সকালে প্রাণিসম্পদ থেকেও লোকজন এসেছে।

বড়লেখা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামীম মোল্লা বলেন, রাতে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান তিনটি কুকুরকে কে বা কারা বিষ খাইয়েছে। এরমধ্যে একটি কুকুর তারে আটকা পড়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি স্থানীয়রা কুকুরটিকে উদ্ধার করেছেন।


একাত্তর/আরবিএস