সময়মতো টাকা না পাওয়ায় পেটে টিউমার রেখেই সেলাই!

সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সময় পেটে একটি টিউমার দেখতে পান চিকিৎসক। সাথে সেই টিউমারটি অপসারণের জন্য বাড়তি তিন হাজার টাকাও দাবি করেন তিনি। রোগীর স্বজনরা এতে রাজি হলেও টাকা দিতে দেরি হওয়ায় পেটে টিউমারটি রেখেই সেলাই করে দেন ওই চিকিৎসক।

এমন অমানবিক ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে মানিকগঞ্জ শহরের হেলথ কেয়ার হাসপাতালে। সন্তান জন্মদাত্রী ওই নারীর নাম আফরোজা আক্তার। সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী গ্রামের নাঈম ইসলামের স্ত্রী তিনি। আগেরদিন দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।  একটি সুস্থ কন্যাশিশুর মাতাপিতা হয়েছেন আফরোজা-নাঈম দম্পতি।

সিজারিয়ান অপারেশনটি হয় ডা. খায়রুল হাসান এবং অ্যানেসথেসিয়ার  চিকিৎসক ডা. আশিকের তত্ত্বাবধানে। নির্ধারিত অপারেশন শেষে ওই নারীর পেটে একটি টিউমার দেখতে পান ডা. খায়রুল। বাড়তি তিন হাজার টাকায় তিনি টিউমারটি অপসারণ করবেন বলে রোগীর স্বজনদের জানান।

নাঈম ইসলাম বলেন, 'নির্ধারিত অপারেশন শেষে পেটে টিউমার ধরা পড়ার পর চিকিৎসক টিউমার অপসারণে তিন হাজার টাকা চায়। আমি তার প্রস্তাবে রাজিও হই এবং টাকাটা অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে তাকে দিতে চাই। কিন্তু এত সকালে দোকান বন্ধ থাকায় এবং টাকা সংগ্রহ করতে একটু দেরি হওয়ায় ডাক্তার পেটে টিউমার রেখেই সেলাই করে চলে যান। আমি তাকে বারবার অনুরোধ করি। হাসপাতালের লোকজনও তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কারও অনুরোধই রাখেননি।

আরও পড়ুন: জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খায়রুল হাসান বলেন, 'একটি অপারেশন করতে গিয়ে আরেকটি অপারেশন প্রয়োজন পড়লে তার জন্য বাড়তি তিন হাজার টাকা ফি দাবি করেছি। টাকা চাওয়াটা তো আমার ভুল হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর আবার অ্যানেসথেসিয়া লাগতে পারে। অন্য সমস্যাও হতে পারে। তাই আমি আর টিউমারটি অপসারণের জন্য অপেক্ষা করিনি। টিউমারটি পরে অপারেশন করলেও চলবে।'

হেলথ কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ' আমাদের হাসপাতালে সার্জারির চিকিৎসক বেশি রাত হলে থাকেন না। এজন্য বিভিন্ন সার্জারির চিকিৎসকদের 'অন কলে' এনে অপারেশন করাই। ওই নারীর জন্য ডা. খায়রুল হাসানকে ডাকা হয়। বিষয়টি রোগীর লোকজন আমাকে ফোনে জানালে আমি চিকিৎসককে অনুরোধ করে বলি, রোগী টাকা না দিলে আমি টাকা দেবো। কিন্তু তিনি পেটের মধ্যে টিউমার রেখেই সেলাই করে চলে যান। এটি অত্যন্ত অমানবিক। এতে আমার হাসপাতালেরও সুনাম নষ্ট হয়েছে।' 

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান বলেন, 'আমি বিষয়টি জেনেছি। এটা অত্যন্ত অমানবিক। এই ধরনের এক দুজনের অমানবিক আচরণে গোটা চিকিৎসক সমাজের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।' 


একাত্তর/জো