নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে সাহসী কন্যার সম্মাননা পেলো নুশরাত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে থানায় হাজির হয়ে নিজেকে রক্ষা করায় সাহসী কন্যার সম্মাননা পেয়েছেন নুশরাত জাহান মিম নামে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রী।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এমন সাহসী ভূমিকার কারণে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ঐ কিশোরীকে সাহসী সম্মাননা স্মারক ও শিক্ষা সহায়তার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। 

সম্মাননা পেয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুশরাত জাহান বলেন, 'সহপাঠীদের অনেকের বাল্যবিয়ে হয়ে যাওয়ার পরবর্তী জীবনে কেউ ভালো নেই। আমি বেশী লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করতে চাই।' 

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয় কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল বলেন, মাদ্রাসাছাত্রী নিজেই সাহস নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেছে। আমরা মেয়েটির এমন সাহসকে সম্মান জানাই। 

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে থানায় হাজির হয়ে ওই কিশোরী সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আজ সে সম্মাননা পেল। এটি সকল শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষণীয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশীর আহম্মেদ জানান, সাহসী ওই মাদ্রাসাছাত্রীর লেখাপড়া সার্বিক সহায়তার পাশাপাশি তার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সহযোগিতা করা হবে। 

আরও পড়ুন: ভারতে পালানোর সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী হত্যার আসামি গ্রেপ্তার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশীর আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাখাওয়াত জামিল সৈকত, ওসি মুহা. নুরুল ইসলাম বাদল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঐ কিশোরীকে অভিবাদন জানান। এসময় নুশরাতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মেয়েটির মা সম্প্রতি জর্ডান থেকে দেশে ফিরে এসে ওই ছাত্রীকে না জানিয়ে বিয়ে ঠিক করেন। 

গত ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার হরিণপালা গ্রাম থেকে মা-বাবার পছন্দ অনুযায়ী ছেলেপক্ষ দেখতে এসে আংটি পরিয়ে দেয়। ঐদিন রাতে নুশরাত জাহান মিম মা-বাবাকে না জানিয়ে থানায় হাজির হয়ে পুলিশের সহায়তা চায়। 

পরে পুলিশ ও মহিলা বিষয় কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ডেকে এনে পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ে বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা গ্রহণ করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। 


একাত্তর/এসজে