নওগাঁর মান্দায় চাঞ্চল্যকর এমরান হোসেন রানা (৩৮) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান রঞ্জুকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মিজানুরের বিরুদ্ধে মান্দার স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কামরুজ্জামান মাস্টার হত্যা প্রচেষ্টা, ধর্ষণ চেষ্টা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ প্রায় ৪টি মামলা রয়েছে।
বুধবার (২২ডিসেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে মিজানুরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় অন্যদের সাথে তার বাবা রফিকুল ইসলাম চান্দু এবং ছোট ভাই রায়হানও এজাহারভুক্ত আসামি।
মিজানুর গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে সতীহাট বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে মারপিট, খুন, জখম, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকারী মিজানসহ সংশ্লিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মান্দা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং হানিফ উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্য স্থানীয় সতীহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুলের সমর্থক এমরান হোসেন রানাকে মিজানুর রহমান ও তার বাবা রফিকুল ইসলাম চান্দুসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন রকমের ধারালো অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে।
স্থানীদের সহায়তায় মৃতপ্রায় অবস্থায় রানাকে প্রথমে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তী সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আটজন আহত হন। এই ঘটনায় নিহত রানার মা রেজিয়া বেগম বাদি হয়ে ১৯ নভেম্বর মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে সাহসী কন্যার সম্মাননা পেলো নুশরাত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন জানান, মঙ্গলবার(২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গনেশপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রানার মা রেজিয়া বেগম বলেন, আমার বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে রানা ছিল আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। মিজানুরসহ যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই।
গনেশপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মিজানুর রহমান এবং তার পরিবার সন্ত্রাসী। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারপিট, খুন-জখম, টাকার বিনিময়ে অপহরণ, ডিপটিউবয়েল, জমি ও দোকান-ঘর দখল করাই তার কাজ।
গনেশপুরসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সাধারন মানুষ তাদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত। জীবনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর রহমান বলেন, এই মামলায় মিজানুর রহমান নামে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, মিজানুরের বিরুদ্ধে মান্দার স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কামরুজ্জামান মাস্টার হত্যা প্রচেষ্টা, ধর্ষণ চেষ্টা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ প্রায় ৪টি মামলা রয়েছে।
একাত্তর/টিএ